অনুসরণকারী

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

25. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *﷽   ﷽    ﷽    ﷽    ﷽*    *﷽*


*ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


*🥀====দ্বিতীয় অধ্যায়,পর্ব -২ ====🥀*


                 *সাবায়ী ফিৎনা নির্মূল* 


 *সাবায়ী ফিৎনা নির্মূলে হযরত মুআবিয়ার রাযি. অবদানঃ* 


      এক কথায় দীর্ঘ প্রায় এক দশকের গৃহ যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত মুসলিম উম্মাহ্‌ হযরত মুআবিয়ার রাযি. খিলাফতকালেই ফিরে পায় তাদের হৃত গৌরব। খিলাফত শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আসে পূর্ণ শৃঙ্খলা মুসলিম জাতি মুক্তি পায় আব্দুল্লাহ বিন সাবার ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রের ভয়াল থাবা থেকে। যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল হযরত উসমানের রাযি. শাসনামলের মাঝামাঝি সময় হতে। অবশেষে তা ফুলে ফেঁপে বীভৎসরূপে ভয়াল মরণ কামড় নিয়ে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে মহানবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই জামাতা মুসলিম জাহানের তৃতীয় ও চতুর্থ খলীফা হযরত উসমান ও আলীর রাযি. শাহাদাত পঞ্চম খলীফা হযরত হাসান মুআবিয়া ও আমর ইবনুল আসের ন্যায় ইসলামী দুনিযার মহান নেতাগণের হত্যা প্রচেষ্টা এবং মুসলিম উম্মাহকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে হাজার হাজার সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীদের রাযি. জান কেড়ে নেয়া এবং খিলাফত ব্যবস্থাকে চিরতরে ধুলিস্যাৎ করে দিয়ে মুসলমানদের দুনিয়া হতে নিশ্চিহ্ন করে দেযার প্রচেষ্টার মাধ্যমে।


      পঞ্চম খলীফা হযরত হাসান রাযি. অন্যান্য বিচক্ষণতা তৎপরতা শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যেমনি অবদান রাখেন ঠিক তেমনিভাবে মহানবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাস দু‘আয় ধন্য হযরত মুআবিয়ার রাযি. অনবদ্য শাসন ও নিরলস প্রচেষ্টার বদৌলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদের উদ্ধার ও রক্ষা করেন। হযরত মুআবিয়ার রাযি. অক্লান্ত পরিশ্রমে শাসনকার্যে ফিরে আসে স্থিতিশীলতা। ইসলামী রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা পুনরায় সু-সংহত হয় এবং মুসলিম বীর যোদ্ধার পুনরায় আরম্ভ করে তাদের স্বভাবসুলভ ইসলামের বিজয়াভিযান। ফলে ইসলামী সীমান্তের পরিধি বৃদ্ধি পেতে থাকে দিক হতে দিকান্তরে।


      কিন্তু মুসলিম জাহানের এই বিজয়াভিযান ও মুসলমানদের উন্নতি প্রগতি ও যাবতীয় জাগতিক উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যম ঐক্যবদ্ধ খিলাফত ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থার এই স্থিতিশীলতা ইয়াহুদী খৃষ্টানচক্র ও তাদের তল্পিবাহক মুনাফিক সাবায়ী গোষ্ঠীর সহ্য হওয়ার নয়। তাই তারা আবার মেতে উঠে পুরোনো ষড়যন্ত্রে। শুরু হয় হযরত উসমানের রাযি. হযরত মুআবিয়ার রাযি. সুশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ। রটনা করতে থাকে অত্যাচার জুলুম ও স্বজনপ্রিয়তা গোয়েবলসীয় অপপ্রচার। কিন্তু এবার আর মুসলিম জনসাধারণ অতীতের ন্যায় ভুল করে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কায়দায় সাবায়ীদের আরোপিত চটকদার ও গতানুগতিক মিথ্যা অভিযোগ সমূহে কান দেয়নি এবং তাদের পরীক্ষিত নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তো করেইনি, বরং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে সর্বত্র সহযোগিতা করে।


      যেহেতু হযরত উসমানের রাযি. যুগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা সাবায়ী দল মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের (যা ছিল তাদেরই সৃষ্ট) সুযোগে বিরাট শক্তি ও প্রভাবশালী দলরূপে আত্মপ্রকাশ করে প্রকাশ্যেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তাক করা আরম্ভ করে দিয়েছিল। হযরত হাসান রাযি. খলীফা হয়ে তাদেরকে দমনের জন্য একমাত্র হযরত মুআবিয়া রাযি. কেই উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করে তাঁর হাতে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করে দিয়েছিলেন। তাই তিনি সর্বসম্মত ও ঐকমত্যপূর্ণ খলীফা মনোনীত হয়ে ঐ মুনাফিক সন্ত্রাসবাদী দলকে দমন করাকেই নিজের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য মনে করলেন।


      অবশ্য হযরত মুআবিয়া রাযি. প্রথম তাঁর প্রবাদতুল্য স্বভাবসুলভ সহনশীলতা ও নম্রতার ব্যবহার করেন। সাবায়ী খারিজীরা সংখ্যায় নগণ্য হলেও তারা স্বীয় বিশ্বাসে ছিল কট্টর এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্যের ব্যাপারে ছিল অনড়। শেষ রক্ত বিন্দু বাকি থাকা পর্যন্ত জান হাতে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়া ছিল তাদের স্বভাব ।এতে কোন লোভ লালসা ভয় ভীতি বা অন্য কোন চিন্তা কখনই তাদের পথে বাধা হয়ে দাড়াতে পারত না। এ প্রেক্ষিতে এ ধরনের একটি সুসংগঠিত ও চরমপন্থি দলের নিয়ন্ত্রণ ও দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত বিচক্ষণ শাসকের প্রয়োজন ছিল যা হযরত মুআবিয়ার রাযি. মাঝে যথাযথভাবেই বিদ্যমান ছিল। তিনি তাদের সংগে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও নম্র আচরণ প্রদর্শন করলেন এবং তাদের বাড়াবাড়ি সমূহের মুকাবিলার ধৈর্য্য ও সহ্যের এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যার নজীর পৃথিবীর শাসকদের ইতিহাসে মেলা ভার।


      এতদসত্ত্বেও সাবায়ী গোষ্ঠী সৃষ্ট খারেজী দল শান্তির পথে না এসে অনবরত দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টে ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ। নিযামকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে টুকরা টুকরা করার প্রচেষ্টায় মত্ত থাকে। সুতরাং তাদের রক্তখেলা হতে দেশ ও জাতির রক্ষা কল্পে হযরত মুআবিয়া রাযি. তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হন এবং প্রবল প্রতিরোধী হয়ে উঠেন। বিশেষতঃ উক্ত দলের আবির্ভাব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যদ্বানী করতে গিয়ে হাত মুবারক উঁচিয়ে ইরাকের দিকে ইশারা করতঃ বলেছিলেন- ঐ অঞ্চল হতে তাদের আবির্ভাব হবে। বস্তুতঃ ঘটেছিলও তাই। ইরাকের কেন্দ্রীয় এলাকা বসরা ও কুফাই উক্ত সন্ত্রাসবাদী দলটির অপতৎপরতার ঘাঁটি ছিল। হযরত মুআবিয়া রাযি.তাই বসরা ও কুফায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। এই কঠোরতা ছাড়া আমীরুল মুমিনীন হযরত মুআবিয়ার রাযি. দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বৎসরের শাসন আমলের সুন্দর অবস্থা ইতিহাসের নিম্নবর্ণিত সার সংক্ষিপ্ত বিবৃতি থেকেই অনুধাবন করা যায়ঃ


      হযরত মুআবিয়াহ রাযি. ৪১ হিজরী সনে সর্বসম্মতরূপে খলীফা নির্বাচিত হয়ে স্বীয় পদে বহাল থাকাবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত বহিঃশত্রুদের এলাকায় পূর্ণোদ্দমে জিহাদ অব্যাহত ছিল। আল্লাহর কালিমা তথা দীন ইসলামের প্রতিপত্তি সর্বত্র বিরাজমান ছিল। চতুর্দিক হতে শত্রুপক্ষের বিজিত ধন সম্পদের সমাগম ছিল। তার শাসনামলে মুসলমানগণ শান্তি ও ন্যায়পরায়ণতার মাঝে দিনাতিপাত করছিলেন এবং দয়া ও ক্ষমা উপভোগ করছিলেন। কঠোরতার কোন প্রশ্নই ছিল না।


   _*📋নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

24. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *﷽   ﷽    ﷽    ﷽    ﷽*    *﷽*


*ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


*🥀====দ্বিতীয় অধ্যায়,পর্ব -১ ====🥀*


*হযরত মুআবিয়ার রাযি.কীর্তিগাঁথা শাসনামল* 


      হযরত মুআবিয়ার রাযি. খিলাফতকালে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলিম উম্মাহর শক্তি ও গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। হযরত উসমানের রাযি. শাহাদাতের পর মুনাফিক সাবায়ীদের প্রচেষ্টায় মুসলমানদের দুঃখজনক পারস্পরিক হানাহানিতে মুসলিম শাসনের দিগ্বিজয়ের যে ধারা দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ ছিল, হযরত মুআবিয়াহ রাযি. খলীফা নির্বাচিত হয়ে কাফির শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও মুসলিম জাহানের সীমান্ত সম্প্রসারণের সেই ধারা আবার পুরোদমে উজ্জীবিত করেন। তাঁর শাসনামলেই মধ্য এশিয়ার সিজিস্তান, সুদান, কাবুল ও সিন্ধুর অংশ বিশেষ বিজিত হয়। পঁয়তাল্লিশ হিজরীতে আফ্রিকা অভিযান পরিচালনা করে তিনি বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ইসলামী খিলাফতের মানচিত্রে সংযোজন করেন। এছাড়া সিসিলি অভিযান এবং কনস্টান্টিনোপল ও সকরকন্দ যুদ্ধ তাঁর আমলেই সংঘটিত হয়। তাঁর খিলাফতকালেই হিন্দুস্তানের ভূখণ্ডে এবং আমু দরিয়া অতিক্রম করে বুখারায় সর্বপ্রথম মুসলিম ফৌজ প্রবেশ করে। মুসলিম ফৌজের এই অব্যাহত বিজয় যাত্রা কাফিরদের শিবিরে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করে।


      হযরত উসমানের রাযি. খিলাফতকালে সিরিয়ার গভর্নর থাকাবস্থায় তিনি হযরত উসমানের রাযি. অনুমতিতে ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য বিশ্বের প্রথম নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ২৭ হিজরীতে ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নৌবহর যোগে সাইপ্রাস অভিযান পরিচালনা করে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিম্নোক্ত সুসংবাদের অধিকারী হনঃ


      “আমার উম্মতের যে প্রথম সৈন্যদলটি নৌ অভিযানে অংশ নিবে, তারা নিজেদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে।” এ অভিযানে সাহাবীগণের রাযি. এক মুবারক জামা’আত তাঁর সাথে ছিলেন।


      খিলাফত লাভের পর নৌশক্তির উন্নয়নের প্রতি তিনি বিশেষ মনোযোগ নিবিষ্ট করেন। ফলে মিসর ও সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে অসংখ্য জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে অল্প কয়েক বছরে এক হাজার সাতশ’ বৃহদায়তন ও মজবুত জাহাজের সমন্বয়ে গড়ে উঠে এক বিরাট নৌবহর যা রোমদের মুকাবিলায় থাকত সদা প্রস্তুত। এ বিরাট নৌবহরের সাহায্যেই স্বীয় খিলাফত আমলে (হিজরী ৪৯ সনে) তিনি সুফিয়ান বিন আওফের পরিচালনায় কনস্টান্টিনোপলের পথে এক বিরাট বাহিনী প্রেরণ করেন। বহুসংখ্যক বিশিষ্ট সাহাবী রাযি. তাতে শরীক ছিলেন। এ বাহিনী সম্পর্কেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিয়ে গিয়েছিলেন-

“মুসলমানদের প্রথম যে বাহিনী কনস্টান্টিনোপলের জিহাদে যাবে, তাদের জন্য মহান আল্লাহর মাগফিরাত নির্ধারিত।”


      হযরত উমরের রাযি. আমলে প্রতিষ্ঠিত ডাক বিভাগ পুনর্বিন্যাস, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে হযরত মুআবিয়া রাযি. উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। বিশাল ইসলামী খিলাফতের সর্বত্র তিনি ডাক বিভাগের জাল বিছিয়ে দেন। এছাড়া সিল মোহর বিভাগ নামে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাইতুল্লাহ শরীফের খিদমতের জন্য তিনি স্থায়ী সেবক নিযুক্ত করেছিলেন এবং আল্লাহর ঘরের জন্য মূল্যবান রেশমী কাপড়ের গিলাফ তৈরী করেছিলেন।


      সুদীর্ঘ একচল্লিশ বছর তিনি খিলাফতের বিভিন্ন দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছিলেন। এ সুদীর্ঘ শাসনকালের সামগ্রিক পর্যালোচনা শেষে ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. মন্তব্য করে বলেন, “তাঁর শাসনামলে জিহাদের ধারা অব্যাহত ছিল। আল্লাহর দীন অপ্রতিহত গতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে চলছিল এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গনীমতলব্ধ সম্পদের ঢল নেমে এসেছিল। মোটকথা, তাঁর শাসন ছায়ায় মুসলিম জনসাধারণ সুখ-শান্তি এবং ইনসাফ ও সমৃদ্ধপূর্ণ জীবন-যাপন করছিল।”


      জনসাধারণের মনোরঞ্জন, অধিকার ও প্রাপ্য আদায়, ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শরী‘আতের বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আর তাই জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশ সাহাবার অন্যতম বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সা’আদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাযি. হযরত মুআবিয়ার রাযি. বাড়ীর দিকে ইঙ্গিত করে স্বতঃস্ফূর্ত ভাষায় বলেছেনঃ ‘‘হযরত উসমানের রাযি. পর এই ঘরের বাসিন্দার (মুআবিয়ার) চেয়ে অধিক ইনসাফকারী কাউকে আমি দেখিনি।”


      হযরত আবু ইসহাক রহ. বলেনঃ হযরত মুআবিয়ার রাযি. শাসনকাল যদি দেখতে, তাহলে ন্যায় ও ইনসাফের কারণে নিঃসন্দেহে তাকে তোমরা ‘মাহদী’ নামে আখ্যায়িত করতে। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক হযরত মুজাহিদ রহ. ও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।


      ইমাম আ’মাশের রহ. মজলিসে একবার হযরত উমর বিন আব্দুল আযীযের রহ. ন্যায়পরায়ণতার আলোচনা শুরু হলে, তিনি বলেনঃ তোমরা উমর বিন আব্দুল আযীযের রহ. প্রশংসা করছো, হযরত মুআবিয়ার রাযি. শাসন যুগ দেখলে কি করতে? লোকে জিজ্ঞেস করল- আপনি কি তাঁর সহনশীলতার কথা বলছেন? তিনি বললেন- না, তাঁর ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের কথাই বলছি।


      হযরত মুআবিয়ার রাযি. ধৈর্য্য ও সহনশীলতা ছিল প্রবাদ তুল্য। এ দু'টো গুণ ছিল তাঁর জীবন ও চরিত্রে অবিচ্ছেদ্য অংশ। চরম বিরুদ্ধাচারণকারীও তার কোন কোন কথার সরাসরি প্রতিবাদ করতো, অশালীন ভাষা ব্যবহার করতো, কিন্তু তা তিনি সহ্য করে নিতেন। বিশিষ্ট মুরুব্বী সাহাবী হযরত জাবির রাযি. বলেনঃ মুআবিয়ার চেয়ে সহনশীল ব্যক্তি আমি আর দেখিনি। হযরত মুআবিয়ার রাযি. নিজেও বলতেনঃ ক্রোধ হজম করায় যে স্বাদ আমি পাই, তা অন্য কিছুতে পাই না।


      কিন্তু এ সহনশীলতা ছিল ততক্ষণ, যতক্ষণ প্রতিপক্ষ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করত। নীতি ও আইনের প্রশ্নে সামান্যতম নমনীয়তা ছিল না তাঁর চরিত্রে। কোথাও কঠোরতার প্রয়োজন হলে দৃঢ়তার সাথে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন।


       হযরত মুআবিয়ার রাযি. ধৈর্য্য ও ক্ষমা সুন্দর চরিত্রের অসংখ্য ঘটনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। ইবনে আওন বলেনঃ হযরত মুআবিয়ার রাযি. আমলে একজন সাধারণ মানুষও তাঁর পথ রোধ করে বলত- মুআবিয়া আমাদের সাথে তোমার আচরণ দুরস্ত করে নাও। নইলে কিন্তু আমরাই তোমাকে দুরস্ত করে ছাড়ব, হযরত মুআবিয়াহ রাযি. বলতেন- ভাই! কি দিয়ে দুরস্ত করবে শুনি? তারা বলত- হাতের এই লাঠি দিয়ে। মুআবিয়া রাযি. বলতেন- আচ্ছা তাহলে এমনিতেই আমি দুরস্ত হয়ে যাচ্ছি।


      খলীফা হযরত মুআবিয়া রাযি. প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদে কুরসী পেতে বসে যেতেন। এ সময় সর্বস্তরের জনসাধারণ বিভিন্ন নালিশ-অভিযোগ এবং অভাব ও প্রয়োজন নিয়ে হাজিত হত। একে একে সবার কথা তিনি মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং যথাসাধ্য তাদের সন্তুষ্ট করতে ও অভাব-অভিযোগ পূরণের ব্যবস্থা করতেন। এভাবে সর্বশেষ ফরিয়াদী বিদায় হওয়া পর্যন্ত তিনি বসে থাকতেন। অতঃপর নেতৃস্থানীয়দের সাক্ষাৎকার দিতেন এবং তাদের বলতেন- “আপনারা স্ব-স্ব গোত্রের ও এলাকার নেতৃস্থানীয় হওয়ার সুবাদের এই বিশেষ মজলিসে উপস্থিত হতে পেরেছেন। সুতরাং এখানে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ যারা পায় না, সেসব সাধারণ জনগণের অভাব-অভিযোগ ও তাদের কথা আমার কাছে তুলে ধরা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব।”


      এভাবে দিনের পাঁচটি সময় তিনি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন সাধারণ লোকদের জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য সেখানে সাক্ষাৎ ও অভিযোগ উত্থাপনের অবাধ অনুমতি ছিল। সবাই সেখানে আমীরুল মুমিনীনের দরবারে নালিশ দাখিল করতে পারতেন।


      হযরত মুআবিয়ার রাযি. বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব অমায়িক চরিত্র, অতুলনীয় অবদান ও অনুপম শাসনামলের তুলনাহীন ও বৈচিত্র্যময় সকল দিকের যতটুকু বিবরণ আরবী ভাষার রচিত মুসলিম ঐতিহাসিকগণের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায়, তার বঙ্গানুবাদের জন্য বিশাল কলেবরের গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন।


      বস্তুতঃ সকল বিচারেই হযরত মুআবিয়ার রাযি. শাসনকাল খিলাফতে রাশিদা পরবর্তী ইসলামী ইতিহাসের সফলতম ও স্বর্ণযুগ সমস্ত উম্মাহর ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ছিল পর্যাপ্ত সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা, সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধি। জনসাধারণের জীবনযাত্রা, চরিত্র ও নৈতিকতার উপর তাঁর ছিল সদা সতর্ক দৃষ্টি।


   _*📋নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

23. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *﷽   ﷽    ﷽    ﷽    ﷽*    *﷽*


*ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


*🥀== প্রথম অধ্যায়,শেষ পর্ব -২৩ ==🥀*


       *হযরত হাসান রাযি.-এর শর্তাবলী* 


   *১.* ইরাকবাসীকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে এবং অতীতের ঘটনাবলীর কারণে কাউকে যেন গ্রেফতার না করা হয়।


   *২.* আহওয়াজের সম্পূর্ণ রাজস্ব আমার নামে লিখে দিতে হবে।


   *৩.* অনুরূপভাবে আমার ভাই হুসাইন রাযি. কে বৎসরে বিশ লক্ষ দিরহাম দিতে হবে। 


   *৪.* রাষ্ট্রীয় অনুদান ও উপহারের বেলায় বনু হাশিমের হক অন্যদের চেয়ে অগ্রগণ্য মনে করতে হবে।


 *হযরত হাসানের রাযি. শর্তাবলীর উদ্দেশ্যঃ* 


      হযরত হাসান রাযি. আহওয়াজের রাজস্ব নিজের নামে লিখে দেয়া ও হযরত হুসাইন রাযি. কে বাৎসরিক বিশ লক্ষ দিরহাম দেয়ার যে দাবী করছিলেন, তা তাদের ব্যক্তিগত খরচ বা পারিবারিক ভোগ-বিলাসে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যয়ের জন্য ছিল না। বরং হযরত আলী রাযি. খলীফা থাকার বৎসরগুলোতে প্রচুর সংখ্যক গরীব-মিসকিন ও বিধবা-অনাথদের রাষ্ট্রীয় তহবিল হতে দান করতেন। তার মৃত্যুর পর তারা সকলের তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইনের রাযি. নিকটই ‘আসত ও ভীড় জমাত। হযরত হাসান রাযি. যে অল্প সময় (ছয়মাস) খলীফা ছিলেন, তখন তিনি ও তাঁর ভাই হুসাইন রাযি. রাষ্ট্রীয় তহবিল হতে তাদের দান করতেন। খিলাফতের দায়িত্ব হতে সরে দাঁড়াবার পর যেন ঐ সকল গরীব-মিসকীনদের অসহায় অবস্থায় খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে না হয়, যে জন্য হযরত হাসান রাযি. খিলাফতের পদত্যাগ কালে এ প্রস্তাব করেন।


      সন্ধি চুক্তি সম্পাদনের পর হযরত হাসান রাযি. খিলাফতের দায়িত্ব হতে সরে আসেন। অতঃপর হযরত হাসান ও হযরত মুআবিয়া রাযি. উভয়ে কুফায় আগমন করেন। কুফার জামে মসজিদে হযরত মুআবিয়া রাযি. কুফাবাসীর নিকট হতে বাই’আত গ্রহণ করেন। সর্বপ্রথম হযরত হাসান রাযি. তাঁর হাতে বাই’আত হন।


      খিলাফতের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে হযরত হাসান রাযি. মদীনা শরীফে আগমন করেন এবং অবশিষ্ট জীবন স্বীয় নানা মহানবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই ভবিষ্যদ্বানী বাস্তবায়িত হলোঃ “আমার এ ছেলে সাইয়িদ-নেতা হবে। আমার ধারণা- আল্লাহ তা’আলা তার দ্বারা মুসলমানদের দু’টি বিরাট দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন।” উল্লেখ্য, হযরত হাসান রাযি. সর্বমোট ছয় মাস খলীফা ছিলেন।


      ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুখ্যাত আব্দুল্লাহ বিন সাবার ষড়যন্ত্রকারী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা গঠিত খারিজী দলের এক ঘাতক কর্তৃক হযরত আলী রাযি. শহীদ হন। অতঃপর তাঁর বড় ছেলে হযরত হাসান রাযি. খলীফা মনোনীত হন। হযরত হাসান রাযি. ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন সাহাবী রাযি. । তাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সুপ্রসিদ্ধ ভবিষ্যদ্বানী এই ছিল যে, তাঁর দ্বারা মুসলমানদের দুটি বিরোধী পক্ষের বিরোধের অবসান ঘটবে। আল্লাহর কুদরতে হযরত হাসান রাযি. খলীফা নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত অকাট্য ভবিষ্যদ্বানী বাস্তবায়িত হওয়ার কাজ অগ্রসর হতে লাগল। এদিকে হযরত হাসান রাযি. এবং তাঁর সমর্থক কুফা ও ইরাকবাসী মুসলমান, অপর দিকে হযরত মুআবিয়াহ রাযি. ও তার সমর্থক সিরিয়াবাসী মুসলমান- এ দুই পক্ষের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সাবার মুনাফিক দল ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী বিরোধ সৃষ্টি পাঁয়তারা করছিল। সেই বিরোধ অবসানের কাজ অর্থাৎ হযরত মুআবিয়াহ রাযি. সঙ্গে সন্ধির প্রয়াস আরম্ভ করলেন। এতে ইবনে সাবার দল চিরাচরিতরূপে মুসলমানদের ঐক্যের মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রমাদ গুনলো এবং হযরত হাসানের রাযি. উপর ক্ষেপে উঠল। এমনকি এক পর্যায়ে তারা তাঁর উপর আক্রমণ করে বসল এবং তাঁর সবকিছু লুণ্ঠন করে নিলো। এরপর হযরত হাসান রাযি. মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং আরো অধিক তৎপর হলেন। মুসলমানদের সর্বনাশকারী খিলাফতের শত্রু এই পঞ্চম বাহিনীকে দমনের কাজে একমাত্র হযরত মুআবিয়াহ রাযি. কেই উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করে তাঁর পক্ষে তিনি খিলাফতের পদত্যাগ করলেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর হাতে বাই’আত হয়ে তাঁকে খলীফা হিসেবে বরণ করে নিলেন। এভাবে হিজরী ৪১ সনে হযরত মুআবিয়াহ রাযি. হাজার হাজার সাহাবায়ে কিরামের রাযি. উপস্থিতিতে মুসলিম জাহানের সর্বসম্মত খলীফা নির্বাচিত হন। সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের মুখে এবং ইতিহাস গ্রন্থে এবং বৎসরকে “আমুল-জামা’আহ বা ঐক্যের বৎসর” বলা হয়েছে।


   _*📋নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

22. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *﷽   ﷽    ﷽    ﷽    ﷽*    *﷽*


*ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


 *====== প্রথম অধ্যায়,পর্ব -২২ ======*


             *একক খিলাফত প্রতিষ্ঠা* 


 *হযরত হাসান রাযি. ও হযরত মুআবিয়া রাযি.- এর মতৈক্যে একক খিলাফত প্রতিষ্ঠাঃ* 


      অতঃপর হযরত মুআবিয়া রাযি. হযরত হাসানের রাযি. নিকট দূত মারফত সন্ধি প্রস্তাব পাঠান। হযরত মুআবিয়ার রাযি. বিশেষ দূত আব্দুল্লাহ বিন ‘আমির তাঁর দলবল সহ হযরত হাসানের রাযি. দলের মুখোমুখি হলে, তিনি চিৎকার করে বললেনঃ হে ইরাকবাসী ভাইয়েরা! আমরা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসিনি, বরং মুআবিয়ার রাযি. পক্ষ হতে সন্ধি প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। হযরত হাসান রাযি. কে আমার সালাম পৌঁছে দাও এবং আমার পক্ষ হতে তাঁর দরবারে এ নিবেদন পেশ কর যে, মুসলমানদের যেন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।


      ইরাকবাসী হযরত মুআবিয়ার রাযি. প্রস্তাব শুনে যুদ্ধ না করাকেই পছন্দ করল। হযরত হাসান রাযি. ও স্বীয় বাহিনী নিয়ে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করলেন। হযরত মুআবিয়ার রাযি. দূতের নিকট হযরত হাসান রাযি. এ উত্তর পাঠান যে, আমি কিছু শর্তের সাথে হযরত মুআবিয়ার রাযি. সাথে সন্ধি করতে ও খিলাফতের দায়িত্ব হতে সরে দাড়াতে প্রস্তুত আছি। আব্দুল্লাহ বিন আমির ফিরে এসে হযরত মুআবিয়া রাযি. কে সন্ধি আলোচনা শুনান। হযরত মুআবিয়া রাযি. মুসলিম বিশ্বের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে আশংকা হতে মুক্তির আশা দেখা দেয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং একটি সাদা কাগজে দস্তখত ও সিলমোহর দিয়ে আব্দুল্লাহ বিন আমিরের হাতে দিয়ে বলেন- এটা হাসান রাযি. কে দিয়ে বলল- যে শর্ত ইচ্ছা লিখে দিন। আমি (মুআবিয়া) তা মেনে নিব।


   _📋 *নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

21. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *﷽   ﷽    ﷽    ﷽    ﷽*    *﷽*


*ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


 *====== প্রথম অধ্যায়,পর্ব -২১ ======*


   *পঞ্চম খলীফা ও তাঁর পরবর্তী খলীফা* 


 *পঞ্চম খলীফা হযরত হাসান রাযি. ও তাঁর পরবর্তী খলীফা হযরত মুআবিয়া রাযি.:* 


      হযরত আলী রাযি. চতুর্থ খলীফা ছিলেন। তাঁর শাহাদাতের পর কূফাবাসী তথা হযরত আলীর রাযি. অনুসারীগণ এক বাক্যে হযরত আলী রাযি. জেষ্ঠ্যপুত্র হযরত হাসান ইবনে আলী রাযি. কে খলীফা মনোনীত করে তাঁর হাতে বাই’আত হন। এদিকে শাম (সিরিয়া) বাসীগণ হযরত আলী রাযি. শাহাদাতের সংবাদ শ্রবণ করতঃ সকলে মিলে হযরত মুআবিয়া রাযি. কে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানান এবং সকলে তাঁকে খলীফা মনোনীত করে তাঁর হাতে বাই’আত হন।


      হযরত হাসান ও হযরত মুআবিয়া রাযি. উভয়েই ইসলামী বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে খলীফা মনোনীত হন। যদ্দরুন ইসলামী বিশ্বে প্রথমবারের মত দুই খলীফার আবির্ভাব এবং ইসলামী দুনিয়া স্থায়ীভাবে দুই শিবিরের বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। অথচ আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নির্দেশ মুতাবিক ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থার রূপরেখা অনুযায়ী সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থেকে একই খলীফার অধীনে একাধিক ‘আমিল’ বা গভর্নর- এর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। এমতাবস্থায় এ দায়িত্ববোধের প্রেক্ষিতে হযরত হাসান ও হযরত মুআবিয়া রাযি. সদলবলে কুফা অভিমুখে রওয়ানা হন।


      হযরত হাসান রাযি. এ খবর জানতে পেলে তিনি হযরত মুআবিয়া রাযি. কে বাধা দানের জন্য ‘মাদায়েন’ অভিমুখে রওয়ানা হন। উভয় পক্ষ বিশাল বাহিনীসহ মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করেন। এমতাবস্থায় অতীতের চেয়ে আরো ব্যাপক ও ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ এড়ানোর জন্য হযরত হাসান ও হযরত মুআবিয়া রাযি. উভয়ই শান্তির লক্ষ্যে আলোচনা ও সন্ধির প্রয়াস চালান।


      এখানেও সাবায়ী ও খারেজীরা ঐক্য প্রচেষ্টা- ব্যর্থ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। সন্ধিতে সম্মত হওয়ায় একমত খারেজী হযরত হাসান রাযি. কে ও তাঁর পিতার ন্যায় কাফির হয়ে যাওয়ার অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর বাহিনীতে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এমনকি এক খারেজী দূর হতে তীর নিক্ষেপে হযরত হাসান রাযি. কে হত্যার চেষ্টা করে। তিনি আহত হয়ে কিছুদিনের চিকিৎসায় সুস্থ হন।


   _📋 *নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

20. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


 *====== প্রথম অধ্যায়,পর্ব -২০ ======*


     *হযরত আলী রাযি.-এর শাহাদাত* 


      সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম হযরত আলী রাযি. আবাসস্থল কুফায় এলো। এখানে এসে যে, খারেজী গোত্রের এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে হযরত আলী রাযি. কে হত্যার ফন্দি আঁটতে লাগল। তারা উভয়ে এ কাজে আরো দু’জন খারেজীকে অন্তর্ভুক্ত করল। অবশেষে রমজানের ১৭ তারিখে ইবনে মুলজিম ও তার দুই সহযোগী কুফার জামে মসজিদে আত্মগোপন করে বসে রইল। ফজরের নামাযের সময় হযরত আলী রাযি. মসজিদে প্রবেশ করে যথারীতি ঘুমন্তদের জাগ্রত করতে লাগলেন। ঘাতকদের একজন গুপ্তস্থান হতে বের হয়ে তাঁর উপর তলোয়ারের আঘাত হানল। হযরত আলী রাযি. মিহরাবে লুটে পড়লেন, ইবনে মুলজিম তাঁর মাথায় পুনরায় আঘাত কর। এতে- তার সমস্ত শরীর ও দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল। ইবনে মুলজিম ধরা পড়ল ও অপর দু’জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হল।


      আশংকাজনক অবস্থায় হযরত আলী রাযি. কে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হল। অবশেষে সেদিন রাতেই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। অতঃপর হযরত হাসান রাযি. খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর ইবনে মুলজিমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।


      এদিকে ইবনের মুলজিমের অপর সাথী বারক বিন আব্দুল্লাহও দামেস্ক (সিরিয়ার রাজধানী) পৌঁছে ঐ তারিখেই হযরত মুআবিয়া রাযি. যখন ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ হতে বেরুচ্ছিলেন, তখন তাঁর উপর আক্রমণ করে। তিনি সামান্য আহত হন। অতঃপর ঘাতক বারককে গ্রেফতারের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিশেষতঃ নামাযের সময়ের জন্য হযরত মুআবিয়া রাযি. নিজের জন্য দেহ রক্ষী নিয়োজিত করেন। ইবনে মুলজিমের তৃতীয় সঙ্গী আমর বিন বাকরও মিসরে নির্দিষ্ট দিনক্ষণে হযরত আমর ইবনুল ‘আসের রাযি. হত্যার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন অসুস্থ থাকার কারণে মসজিদে ‘আসতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে সেদিক খারিজা বিন আবী হাবীবা নামাযের ইমামতি করেন। ঘাতক তাকেই কাঙ্খিত ব্যক্তি মনে করে আক্রমণ চালায় এবং শহীদ করে ফেলে। অতঃপর নিজেও বন্দী হয়ে নিহত হয়।


   📋 _*নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

19. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস

 *ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস* 


 *====== প্রথম অধ্যায়,পর্ব -১৯ ======*


    *খারেজী সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশ* 


      আব্দুল্লাহ বিন সাবার এ দলটি এত দিনে অনেক শক্তি অর্জন করেছিল। তাই তারা এখন হযরত আলীর রাযি. দল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা দল গঠন করে যুদ্ধ করারও দুঃসাহস দেখায়। তারা সালিশী চুক্তিকে কুফরী কাজ আখ্যা দিয়ে হযরত আলী ও হযরত মুআবিয়া রাযি. উভয়কেই কাফির ঘোষণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে দেয়। তাছাড়া সালিশী চুক্তির সমর্থক সাধারণ মুসলিম জনগণকেও তারা কাফির ঘোষণা করে এবং তাঁদের হত্যা করা ও তাঁদের সম্পদ লুন্ঠন করাকে বৈধ ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে খুন, জখম, লুণ্ঠনসহ বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়।


      তাদের এ অপতৎপরতা হযরত আলীর রাযি. ভূখণ্ডেই বেশী ছিল। হযরত আলী রাযি. তখন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খারেজীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং একাধিক অভিযানে তাঁদের অধিকাংশকেই হত্যা ও বন্দী করেন।


      খারেজীদের বিরুদ্ধে হযরত আলীর রাযি. এ সকল অভিযানের কারণে হযরত আলী রাযি. ও অপরাপর মুসলিম নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশোধস্পৃহা অনেকগুণে বেড়ে যায়। এ জন্য তারা এক সঙ্গে হযরত আলী, মুআবিয়া ও আমর ইবনুল ‘আস রাযি. কে হত্যা ও খিলাফত ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ চিরতরে রুদ্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্র আঁটে। সে মতে তিন খারেজী আব্দুর রহমান বিন মুলজিম, বারক বিন আব্দুল্লাহ ও আমর বিন বাকর মক্কায় মিলিত হয়ে আলোচনা করল যে, আমাদের (খারেজী) ভাইদের মৃত্যুর পর জীবনের স্বাদ নেই। আমরা এখন আলী, মুআবিয়া ও আমর বিন ‘আস রাযি. কে হত্যা করে আমাদের ভাইদের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার মাঝেই জীবনের সর্বশেষ স্বার্থকতা দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তারা সিদ্ধান্ত নিলো যে, আব্দুর রহমান বিন মুলজিম হযরত আলী রাযি. কে, বারক হযরত মুআবিয়া রাযি. কে এবং আমর হযরত আমর ইবনুল ‘আস রাযি. কে একই দিন একই সময়ে শহীদ করবে। এর জন্য তারা ১৭ই রমজান ৪০ হিজরী তারিখকে দিনক্ষণ হিসেবে নির্ধারণ করলো।


   _*📋নিজে পড়বেন এবং শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন।*_

44. ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*

 *⛲ ♧  ﷽   ﷽   ﷽   ﷽*  *♧*  *⛲*       *ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস*  *🥀====তৃতীয় অধ্যায়,পর্ব -১৫====🥀*      *আহলে বাইতের সদস্য ব...